সবুজ জাদুর ছেলে
এই গল্পটি আসলে এক সত্য ঘটনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ভারতের আসামের এক যুবক একা হাতে বালিয়াড়িতে হাজার হাজার গাছ লাগিয়ে এক বিশাল বন তৈরি করেছিলেন।
একবার এক নদীর ধারে ছিল এক ছোট গ্রাম। গ্রামের নাম ছিল পাতাবাড়ি। সেখানে বাস করত এক দরিদ্র কৃষকের ছেলে, নাম তার রাহুল। গ্রামের চারপাশ ছিল শুধু বালি আর ধুলা। গাছ ছিল না, পাখি ছিল না, ছায়া ছিল না। গরমে মানুষ হাঁসফাঁস করত, বৃষ্টিতে মাটি ভেসে যেত। একদিন রাতে রাহুল স্বপ্ন দেখল। স্বপ্নে এক সবুজ পোশাক পরা বৃদ্ধা এসে বলল, “নদীর ওপারে একটা ছোট বীজ আছে। সেই বীজ যদি তুমি প্রতিদিন জল দিয়ে যত্ন করো, তাহলে একদিন পুরো গ্রাম সবুজ হয়ে যাবে। কিন্তু তোমাকে ধৈর্য ধরতে হবে। কেউ বিশ্বাস করবে না।” রাহুল সকালে উঠে নদীর ওপারে গিয়ে সেই বীজ খুঁজে পেল। সে বাড়িতে এনে মাটিতে পুঁতে দিল। প্রতিদিন সকালে উঠে জল দিত, আগাছা পরিষ্কার করত। গ্রামের লোকেরা হাসাহাসি করত, “এই ছেলে পাগল হয়েছে! একটা বীজ দিয়ে কী হবে?” মাস গেল, বছর গেল। রাহুল থামল না। ধীরে ধীরে একটা ছোট চারা গজাল। তারপর আরও কিছু গাছ। রাহুল একা একা আরও বীজ বুনতে লাগল। পাখিরা এসে বাসা বাঁধল। প্রজাপতিরা উড়তে শুরু করল। একদিন দেখা গেল, পুরো এলাকা সবুজ অরণ্যে ভরে গেছে। এক ভয়ংকর ঝড় এল। গ্রামের সব ঘর উড়ে যেতে বসল। কিন্তু রাহুলের তৈরি বন ঝড়কে আটকে রাখল। গাছেরা গ্রামকে রক্ষা করল। লোকেরা অবাক হয়ে রাহুলের পায়ে পড়ল। রাহুল শুধু হেসে বলল, “আমি কিছু করিনি। শুধু মাটির সঙ্গে ভালোবাসা দিয়েছি।” সেই থেকে পাতাবাড়ি গ্রাম সবুজে ভরে থাকল। লোকে বলত, “রাহুল রাজা নয়, কিন্তু সে আমাদের বনের রাজা।”