বৃষ্টিভেজা জানালা
বাইরে তখন ঝুম বৃষ্টি। জানালার কাঁচ বেয়ে পানির ফোঁটাগুলো ধীরে ধীরে নিচে নেমে আসছিল। নীলা চুপচাপ জানালার পাশে বসে সেই বৃষ্টি দেখছিল।
আজ তার মনটা খুব খারাপ।
কেন খারাপ, তার কোনো নির্দিষ্ট কারণ নেই। কখনো কখনো মানুষের মন এমনই হয়—সবকিছু ঠিকঠাক থাকার পরও বুকের ভেতর একটা অদৃশ্য শূন্যতা এসে বসে থাকে।
হঠাৎ ফোনটা বেজে উঠল।
স্ক্রিনে ভেসে উঠল— “মা”।
নীলা ফোন ধরতেই ওপাশ থেকে মায়ের কণ্ঠ, “কী করছিস মা?”
নীলা একটু হেসে বলল, “বৃষ্টি দেখছি।”
“একলা একলা?”
“হুম।”
মা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন, “বৃষ্টি একা দেখলে মন খারাপ হয়। এক কাপ চা বানিয়ে নে।”
নীলা হেসে ফেলল। “মা, তুমি কীভাবে বুঝলে?”
“মা হলে বুঝতে হয় না, অনুভব করতে হয়।”
কথাটা শুনে নীলার চোখ ভিজে উঠল।
সে রান্নাঘরে গিয়ে এক কাপ চা বানাল। তারপর আবার জানালার পাশে এসে বসল। বাইরে তখনও বৃষ্টি হচ্ছে।
কিন্তু এবার বৃষ্টিটাকে আর আগের মতো বিষণ্ণ লাগছিল না।
মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে বলতে নীলা হঠাৎ বুঝতে পারল—জীবনে সুখ মানেই বড় কোনো ঘটনা নয়। কখনো এক কাপ চা, জানালার পাশে বৃষ্টি, আর দূরে থাকা একজন মানুষের ভালোবাসার কণ্ঠও পুরো পৃথিবীটাকে সুন্দর করে দিতে পারে।
ফোন রাখার আগে মা বললেন, “মনে রাখিস, যত দূরেই থাকিস, তুই কখনো একা না।”
নীলা চোখ মুছে মৃদু হেসে বলল, “জানি মা।”
তারপর সে জানালাটা একটু খুলে দিল।
বৃষ্টির ঠান্ডা বাতাস এসে তার মুখ ছুঁয়ে গেল।
নীলার মনে হলো— কিছু কিছু বৃষ্টি ভেজায় না, বরং মনের জমে থাকা কষ্টগুলো ধুয়ে দিয়ে যায়।